অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ

                    অনিয়মিত মাসিক 

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা অনিয়মিত মাসিক ও তার ঔষধ এবং প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব। অনিয়মিত মাসিক ভালো করার জন্য আমাদের পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ

ভূমিকাঃ

যে কোনো বয়সের নারীদেরই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে যারা অবিবাহিত। সাধারণত অনেক বেশি স্ট্রেস, পরিশ্রম, দুর্বলতা, জীবনযাত্রায় বড় কোন পরিবর্ত- এসব কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে। আবার শারীরিক ত্রুটির কারণেও পিরিয়ড ইরেগুলার হতে পারে।

অনিয়মিত মাসিকের ঘরোয়া উপায়ঃ

১। কাচা পেপেঃ কাঁচা পেপে পিরিয়ড রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। এটি জরায়ুর মাসল ফাইবার কন্ট্রাকশন-এ সাহায্য করে। পর পর কয়েক মাস নিয়মিত কাঁচা পেপের রস খেলে পিরিয়ড নিয়মিত হয়, তবে পিরিয়ড চলাকালীন এটি না খাওয়াই ভালো। পিরিয়ড নিয়মিত করা ছাড়াও কাঁচা পেপে হজমে সাহায্য করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ত্বক মসৃণ রাখে।

২। কাঁচা হ্লুদঃ হলুদ মসলা জাতীয় দ্রব্য হলেও প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে এর ব্যবহার নানামুখী। এটি পিরিয়ড নিয়মিত করতে এবং শরীরে হরমোন ব্যাল্যান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ জরায়ুর মাংসপেশী সঙ্কোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ পিরিয়ড-এর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৩। অ্যালোভেরাঃ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শাঁস রূপচর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি হরমোন রেগুলেশন-এ সাহায্য করে। সব থেকে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তাজা অ্যালোভেরা পাতার রস সামান্য মধুর সাথে মিশিয়ে খান। তবে পিরিয়ড চলাকালীন না খাওয়াই ভালো।

৪।আদাঃ ১ কাপ পানিতে ১ চা চামচ পরিমাণ মিহি আদা কুঁচি নিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এখন এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন খাবার খাওয়ার পর এই পানীয়টি তিন বেলা খাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পানীয়টি ভরা পেটে খেতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই সুফল পাবেন। আদা পিরিয়ড সাইকেল রেগুলেশন-এ সাহায্য করে এবং অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করে।

৫।জিরাঃ মাসিক নিয়মিত করতে জিরা অনেক ভালো কাজে দেয়। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এক গ্লাস পানিতে ২ চা চামচ জিরা নিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি এবং জিরা দুটোই খেয়ে ফেলুন। নিয়মিত সেবন করে দেখুন, সুফল পাবেন।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলেও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা হতে পারে। এজন্য এই পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি আয়রন বা লৌহসমৃদ্ধ খাবার যেমন- গরু, মুরগীর মাংস, কলিজা, চিংড়ি, ডিম, কচুর শাক, লাল শাক, পালং শাক, মিষ্টি আলু, ফুলকপি, মটরশুঁটি তরমুজ, খেজুর, গাব, টমেটো, ডাল, ভুট্টা, শস্যদানা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

অনিয়মিত মাসিকের কারন ঃ

নারি শরীরে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা মাসিক একটি প্রচলিত সমস্যা। সাধারণত একজন নারীর জীবনে ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর থেকে ২১ দিন থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে যেটি হয় সেটি নিয়মিত ঋতুস্রাব। আর যদি ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হয় তবে সেটিকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলে।

অনিয়মিত মাসিকের কারনঃ
  • শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়।
  • বিবাহিত নারীরা হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে হতে পারে।
  • বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের ফলে হতে পারে।
  • শরীরের রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • অনেকের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যা হয়।
  • জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে।
  • সহবাসের সময় পুরুষের শরীর থেকে আসা অসুখের কারণে হতে পারে। যেমন : গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি।
  • শরীরে টিউমার ও ক্যানসার ইত্যাদি অসুখে হতে পারে।
  • প্রি মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।
  • যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে

অনিয়মিত মাসিকের হোমিও ঔষধের নামঃ

মাসিক প্রায়ই অনিয়মিত হয় এবং অনেক দেরিতে,ব্যথা পেটে,মাসিক শুরু হওয়ার আগে ব্যাথার ক্ষেত্রে-Janosia Ashoka.
মাসিক অনিয়মিত,মাসিক অতি অল্পদিন বা অনেক দিন ধরে চলে,মাসিকের ২/১ আগ থেকে তল পেটে ভীষণ ব্যাথা,রক্ত কালো ও চাপচাপ এর ক্ষেত্রে- Abroma Augusta.

কিমিচি পুগা দেশ মশা- এই প্রতিকারটি অনিয়মিত এবং যন্ত্রণাদায়ক মাসিকের সাথে শুটিং যন্ত্রণা এবং উরু দিয়ে নিচে যাবে বা প্রসব যন্ত্রণার মত ক্যাম্প শ্রেণীর অঞ্চলে অনুভূত হবে। এর আগে অস্থির এবং উষ্ণ হয়ে উঠে এই মহিলারা শক্তিশালী গল্প প্রিয় বিষন্ন তারা নিজেদেরকে আঘাত করার চেষ্টা করে বন্ধ থাকা ঘোরার গাড়ি বেড়ানোর ভয় নিয়ে আসন্ন খারাপের স্বপ্ন দেখে।

সেপিয়া-এর প্রতিকারটি ক্লান্ত এমন টেনে আনা এমন মহিলাদের জন্য উপযুক্ত যারা তাদের নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য উদাসীন। তিনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করার অনুভূতি রাখেন যদি দাবি করা হয় তাহলে খিটখিটে এবং বঙ্গজনক হয়ে ওঠে মাসিক বিলম্বিত হচ্ছে এই অনুভূতিতে যে শ্রেণীর তল দুর্বল বা জরায়ু পাশে ঝুলে পড়েছে।

একটি মহিলার প্রথাগত হরমোনাল চক্রের বিভিন্ন হরমোন গুলির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর নির্ভরশীল। অনেক সম্ভাব্য উদ্দীপক হরমোন ভারসাম্য উজ্জীবিত করে অনিয়মিত মাসিক আনতে পারে। যদি কোন মহিলার ডিম্বানু উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয় তবে তার ডিম্বাশয় প্রজেস্টেরন নামে একটি হরমোন তৈরির জন্য কোন সংকেত পাবে না। প্রোজেস্টেরন এন্ড্রোমেট্রিয়াম নামক জরায়ু লাইন কে নিয়ন্ত্রিত করে অপরিহার্য বা যা ঋতুস্রাবের সময় বর্জন করা হয়।

অনিয়মিত মাসিকের লক্ষণঃ

  • অনিয়মিত মাসিকের প্রধান লক্ষন হচ্ছে মাসিক চক্র ৩৫ দিনের বেশি হওয়া।
  • ঠিকমতো রক্ত ক্ষরণ না হওয়া।
  • রক্তের ক্লটগুলোর ব্যাস যদি ২.৫ সেন্টিমিটারের বেশি হই তাহলে মাসিক অনিয়মিত হয়।
ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরণ এই দুটি হরমন মাসিক চক্রকে নিয়ন্ত্রন করে। বয়ঃসন্ধিকালে হরমনের বেশির ভাগ পরিবর্তন হয় , তাই তখন মাসিক অনিয়মিত হওয়ার সম্ভবনাও বেশি থাকে। মহিলাদের মেনোপজ হওয়ার আগে প্রায়ই অনিয়মিত মাসিক হয় এবং তখন রক্ত ক্ষরণ ও অনিয়মিত হয়। মেনোপজ হওয়ার পর মেয়েদের আর মাসিক হই না। গর্বঅবস্থাও পিরিওড বন্ধ থাকে।

মাসে ২ বার মাসিক হওয়ার কারণঃ

মাসে দুই বা তার বেশি ঋতুস্রাব হওয়া, এক-দু মাস ছাড়া একবার ঋতুস্রাব হওয়া- এই ধরনের ঘটনাকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বলা হয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণা সাবধান হওয়া জরুরি। ঋতুস্রাব নারী শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই প্রক্রিয়া কোনও গন্ডগোল হলে, অন্যান্য শারীরিক অবস্থার মতই সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ নারী দেহে ঋতুস্রাব জনিত কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে, ওভারিতে টিউমার ও ওভারিয়ান ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকি ভবিষ্যতে গর্ভধারণেও একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই সময় থাকতেই এই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যার চিকিৎসা করানো দরকার।
স্থূলতা এই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের একটি বড় কারণ। এই ক্ষেত্রে ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন এবং ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এছাড়াও যদি ওভারিতে সিস্ট থাকে কিংবা থাইরয়েডের সমস্যা থাকে তাহলেও মাসে দু’বার ঋতুস্রাব হতে পারে। অন্যদিকে, এই সব কারণে অতিরিক্ত পরিমাণ রক্তপাতও হয়। সেই ক্ষেত্রেও সচেতন হন, নয়তো ভবিষ্যতে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেবে। একই ভাবে মানসিক চাপের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও দুটি কারণ রয়েছে, যার জন্য কোনও কোনও মাসে এই দু’বার ঋতুস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত গর্ভাবস্থা এবং দ্বিতীয়টা হল গর্ভপাত। আমরা মনে করি গর্ভাবস্থা মানেই পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার পরে মাঝখানে রক্তপাত হয়। বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে। যৌন মিলন বা ওয়ার্ক আউট করার পরেও এটি ঘটে। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যোনিপথে রক্তপাত হওয়া সাধারণ ব্যাপার। তবে এটি গর্ভপাতের লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এর জন্য চিকিৎসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা উচিত।

শেষ কথাঃ

অনিয়মিত মাসিক একটি বড় সমস্যা। ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা না সারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। মাসিক নিয়ে অবহেলা না করে অনিয়মিত মাসিক থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

Comments