ঠোঁট ফাটার কারণ ও প্রতিকার সম্পরকে বিস্তারিত জানুন

            ঠোঁট ফাটার কারণ ও প্রতিকার

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা ঠোঁট ফাটার কারন ও প্রতিকার সম্পরকে আপনাদের জানাবো।ঠোঁট নানা কারন এ ফাটতে পারে। এই বিষয় নিয়ে হতাস হওয়ার কিছু নেই ।ঠোঁট ফাটার কারন ও প্রতিকার সম্পরকে জানতে নিচের তথ্য গুলো সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

সূচিপত্রঃ 

ভূমিকাঃ ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারন শরিরে পানির পরিমান কম থাকা। শরিরে পানির এর ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। এছারা যাদের পাকস্থলী ও হজমে সমস্যা রয়েছে তাদের ঠোঁট ফাটার সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে । এজন্য আমাদের বেশি বেশি পানি পান করা উচিত।

ঠোঁট ফাটা কমানোর ঘরোয়া উপায়ঃ
  • অ্যালোভেরা ভেষজ অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে ঠোঁট ফাটে না । 
  • মধু ,মধু খুবই ভালো অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াজাত পদার্থ এবং ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বককে কোমল করতে সাহায্য করে, ত্বকের শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে রোধ করে। 
  • নারিকেল তেল 
  • শসা  
  • গ্লিসারিন 
অ্যালোভেরাঃ ভেজক অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে ঠোঁট ফাটেনা।এর রস ঠোঁটে লাগালে শুষ্ক ঠোঁট হয় প্রাণবন্ত । অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের মরা কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ত্বকে ঠান্ডাভাবও বজায় রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরা পাতা কেটে নিয়ে তার ভিতরে থাকা জেল বের করে একটি পাত্রে রাখতে হবে।
ওই জেল রাতে ঘুমাতো যাওয়ার আগে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। একটি পাত্রে ওই জেল ফ্রিজে রাখতে পারেন। প্রতিদিন রাতেই এটা ব্যবহার করলে ফাটা ঠোঁটের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে।

মধুঃমধু খুবই ভালো অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াজাত পদার্থ এবং ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বককে কোমল করতে সাহায্য করে, ত্বকের শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে রোধ করে। এই দুটো জিনিস যদি একসঙ্গে ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ঠোঁটের জন্য উপকারীও হবে আবার ঠোঁট ফাটার সমস্যা থেকেও রেহাই মিলবে।
 মধু প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। আর ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ঠোঁট নরম রাখতে অনেকেই ব্যবহার করেন। আসলে এই দুটি উপাদানই প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজারের কাজ করে। ফাটা ঠোঁটের জন্য বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন এই চটজলদি সমাধান। 

নারিকেল তেলঃঠোঁট ফাটা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই নারিকেল তেলের ব্যবহার রয়েছে । এতে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে । যা ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে । নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই ঠোঁটকে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচাতে নিয়মিত ঠোঁটে নারকেল তেল ব্যবহার করুন। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, ক্যারিয়ার অয়েল প্রাকৃতিকভাবে ময়শ্চারাইজারের কাজ করে। এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা ত্বককে আর্দ্র করে। ঠোঁটকে নরম ও কোমল করতে সাহায্য করে।

শসাঃশুষ্ক এবং ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় শসা ভালো প্রাকৃতিক ওষুধ। ত্বককে নরম এবং কোমল করে তুলতেও এর জুড়ি মেলা ভার। টুকরো করে কেটে নেওয়া ফ্রেশ শসা দুই থেকে তিন মিনিট ঠোঁটের উপর ঘষতে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে আগে থেকে তৈরি করে রাখা শসার রস ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে দিন অন্তত ১০ মিনিট। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। শসার রস না লাগিয়ে শসা চটকে নিয়ে প্যাক তৈরি করেও লাগাতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত একবার করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই দূর হবে ফাটা ঠোঁটের সমস্যা।

গ্লিসারিনঃপ্রতিদিন গ্লিসারিন লাগালে ঠোঁট ফাটার সমস্যা কখনোই হবে না। রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে গ্লিসারিন দিয়ে ম্যাসাজ করে ঘুমান। সকালে নিজেই এর ফলাফল দেখতে পারবেন।

শীতে ঠোঁট ফাটার সমস্যাঃ 

যেসব কারনে সমস্যা বাড়েঃ
  •  কিছু বিষয় আছে, যা ঠোঁট ফাটা বাড়ায়। যেমন বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট চাটার অভ্যাস, পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাব, প্রখর সূর্যের তাপ ও পানিশূন্যতা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়া, অ্যালার্জি, থাইরয়েডের সমস্যা এবং শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব।
  • ঠোঁট কামড়ানোর মতো অভ্যাসেও ঠোঁট ফাটতে পারে। আবার অনেক সময় ঠোঁটে লাগানো লিপস্টিক, লিপবাম বা লিপজেল সহ্য না হলে চুলকানি হয়ে ঠোঁট ফাটতে পারে। এসব কসমেটিকসে ল্যানোলিন, স্যালিসিলিক অ্যাসিডের মতো উপকরণ থাকে। এগুলো ঠোঁটের সমস্যা বাড়ায়।
  • অনেকের আবার সাইট্রাস–জাতীয় ফল বেশি খেলে ঠোঁট ফেটে যায়।
যা করনীয়ঃ 
  •  ঠোঁট যাতে সব সময় ভেজা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সারা দিনই কিছুক্ষণ পরপর লিপবাম বা ভ্যাসলিন-জাতীয় ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখতে হবে। বাইরে বেরোনোর আগে মুখের পাশাপাশি ঠোঁটেও সানস্ক্রিন দিন। ঠোঁটের লিপবামে সূর্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো উপকরণ (এসপিএফ) আছে কি না, দেখে নিন।
  • শরীরে যাতে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়, সে জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • অ্যালোভেরার জেল লাগাতে পারেন। এ ছাড়া ঠোঁটে এক ফোঁটা ঘি লাগিয়ে রাখলেও ঠোঁট নরম থাকবে। মধু ও গ্লিসারিনের পেস্ট বানিয়ে লাগালে ঠোঁট ফাটবে না।

 গরমে ঠোঁট ফাটার কারন ঃ 

আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগের মতো শীতকাল এখন আর হয় না এবং একই সাথে ঋতুগুলোর বৈশিষ্ট্যেও পরিবর্তন আসার প্রভাব পড়ছে মানবশরীরেও।
এখন রোজার সময় আবার গরমও অনেক পড়ছে, যে কারণে অনেকেই পানিশুন্যতায় ভুগছেন।

"গরমের কারণেই কারও ঠোঁট ফাটছে, আবার কারও কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে। কারণ চামড়া শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।" "শুষ্কতার কারণে স্কীনের জলীয় অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ঠোঁট বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, কারণ ঠোটের বাইরের দিকটার চামড়া থাকে খুবই পাতলা ধরণের।

ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবেঃ

সাধারনত ভিটামিন-বি এর অভাব দেখা দিলে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেই। ফোলেট অর্থাৎ ভিটামিন-বি ৯, ভিটামিন -বি ৬ , ভিটামিন -বি ২ এবং ভিটামিন-বি ১২ অভাবের কারনে ঠোঁট ফেটে যায়। ভিটামিন-বি ১২ সাধারনত প্রানিজ খাদ্যে বেশি থাকে ,ভিটামিন-বি ১২ এর ঘাটতি পূরন করলে ঠোঁট ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
 নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি ছাড়াও অনেক সময় কিছু প্রয়োজনীও খনিজ পদার্থ এর অভাবে ও ঠোঁট ফাটতে পারে । এর মধ্যে আয়রন এবং জিংক অন্যতম। শরিরে যদি পর্যাপ্ত পরিমানে জিংক সরবরাহ না হয়, তাহলে তক এর উপর প্রভাব পড়ে যার ফলে ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়। 

ঠোঁট ফাটার সমাধানঃ

 পানি: শীত বা শুষ্ক আবহাওয়া ছাড়াও ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারণ পানিশূন্যতা। তাই রোজ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। পানি পান করলে ঠোঁট শুকায় না, মরাকোষ কম জন্মায়, ফলে সহজে ফাটে না। আর ঠোঁট ফেটে গেলে দিনে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করতেই হবে।

লিপ বাম ও ময়েশ্চারাইজার: গন্ধহীন লিপ বাম, পেট্রোলিয়াম জেলি বা খাঁটি নারকেল তেল ঠোঁট ফাটা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ঠোঁটে ব্যবহূত ময়েশ্চারাইজারে যেন কোনো রাসায়নিক উপাদান না থাকে দিনে যতবার সম্ভব ঠোঁটে এসব উপকরণ লাগাতে হবে। তাহলে কম সময়ে ঠোঁট ফাটা সেরে উঠবে।

অ্যালোভেরা জেল: ঠোঁটের দুই পাশে ফেটে গেলে ক্ষত অনেক গভীর হয়, ফলে খাওয়া ও কথা বলার সময় ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথা উপশম ও আরোগ্য লাভের জন্য অ্যালোভেরা জেল লাগান। ভালো ফলাফলের জন্য ফ্রিজে অ্যালোভেরা পাতা রেখে দিন। এরপর ঠাণ্ডা জেল ত্বকে লাগান ১৫-২০ মিনিট । ঠোঁট মুছে অবশ্যই লিপবাম লাগাতে হবে।

প্রাকৃতিক মিশ্রণ: দুই টেবিল চামচ টি ট্রি অয়েল, এক টেবিল চামচ ভিটামিন ই অয়েল ও আধা টেবিল চামচ পেট্রোলিয়াম জেলি একসঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। দিনে যতবার সম্ভব এ মিশ্রণ লাগান।

লেবুর রস: ঠোঁট ফাটা সমস্যা সমাধানে খুব ভালো ভূমিকা রাখে লেবুর রস। তাই ঘরে বসেই খুব সহজেই প্রাকৃতিক এ উপাদানের মাধ্যমে ঠোঁট ফাটা সমস্যা সমাধান করতে পারেন।
 

Comments