আলুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

                           আলুর উপকারিতা

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা কথা বলব আলুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। আলুর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পরর্কে জানতে আমাদের পোষ্টটি এড়িয়ে না গিয়ে সম্পূর্ন পড়ুন।
আলু খুবই উপকারি। আলু খেলে শরির মটা হয়। আলু তে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে যা আমাদের দেহ গঠনে সাহায্য করে।আলুতে অনেক ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে।

সিদ্ধ আলু খাওয়ার উপকারিতা

সিদ্ধ আলুতে ভিটামিন-বি পাওয়া যাই।শুধু ভিটামিন বি না ভিটামিন-সি ্ও প্রচুর পরিমানে পাওয়া যাই।
 
আলুকে নিয়ে অনেকের মনেই নানা সন্দেহ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন আলু খেলে ওজন নাকি আরও বেড়ে যায়। তবে জেনে রাখা উচিত যে সিদ্ধ আলু খেলে ওজন তো বাড়েই না, উল্টো নানা উপকার পাওয়া যায়। কারণ আলুতে উপস্থিত নানাবিধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করে একদিকে যেমন শরীরের ইতিউতি জমে থাকা মেদকে ঝরিয়ে ফেলে, তেমনি ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, সিদ্ধ আলু আরও নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।

ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়

নিয়মিত আলু সিদ্ধ খাওয়া শুরু করলে বাস্তবিকই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ে চোখে পরার মতো। আসলে আলুতে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর ব্রেন পাওয়ারকে নিমেষে বাড়িয়ে তুলতে যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। তাই বুড়ো বয়স পর্যন্ত ব্রেন একেবাপরে ঘোড়ার মতো ছুটুক, এমমনটা যদি চান, তাহলে রোজের ডায়েটে সিদ্ধ আলুকে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন!

ফাইবারের চাহিদা মিটবে

মাঝারি মাপের একটা আলুতে প্রায় ২ গ্রামের কাছকাছি ফাইবার থাকে, যা সারা দিনের মোট ফাইবারের চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। প্রসঙ্গত, ডায়াটারি ফাইবার একাধিক রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো শরীরে যাতে কোনও সময় ফাইবারের ঘাটতি দেখা না দেয়, সে দিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এ ক্ষেত্রে আলুর কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না।
ভিটামিন সি-এর যোগান ঠিক থাকবে

শরীরকে সুস্থ রাখতে এই বিশেষ ভিটামিনটির কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না। আর নিয়মিত আলু খেলে শরীরে এই বিশেষ উপাদানটির ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, কোনও ধরনের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে

আলুতে উপস্থিত ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং জিঙ্ক শরীরের ভিতরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে, যে কোনও ধরনের ত্বকের রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, ত্বকের পরিচর্যায় আরেকভাবেও আলুকে কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো আলু নিয়ে তার পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টের সঙ্গে অল্প পরিমাণ মধু মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন দারুন ফল মিলতে শুরু করেছে।

রূপচর্চায় আলুর উপকারিতা

আলু শুধু স্বাস্থ্যের জন্যেই নয়, রূপচর্চার জন্যেও দারুণ একটি জিনিস। এখানে জেনে নিন সৌন্দর্যবর্ধনে আলুর উপকারিতা। 
১. চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করতে হলে আলু কেটে সেখানে লাগিয়ে রাখুন।
২. চোখের ফোলা ভাব দূর করতে হলে আলু চাকতি করে কেটে চোখের ওপর দিয়ে রাখুন।
৩. লেবু রস ও আলু ছেঁচে তার রস মিশিয়ে মুখের লাগান। কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।
৪.  মাঝারি সাইজের আস্ত একটি আলু ছেঁচে তাতে একটি লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সুস্থতা ফিরে পাবে।
৫. একটি আলু ও একটি শসা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এতে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও এক টেবিল চামচ পানি মেশান। এটি একটি দারুণ ক্লিনজার হিসেবে কাজ করবে।
৬. রুক্ষ ও শুষ্ক চুলে আলু ছেঁচে তার রস লাগালে তা চুলের ময়েশ্চারের কাজ করে।
৭.একটি আলু ছেঁচে তার সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে নিন। শুষ্ক ত্বকে ১৫ মিনিট ব্যবহার করলে তেলতেলে ভাব চলে আসবে।
৮. কয়েকটি আলু সেদ্ধ করুন। খোসা ছাড়িয়ে এক ঘণ্টা ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার শুষ্ক চুলে এগুলো ঘষতে থাকুন। ধূসর চুলগুলো চকচকে হয়ে উঠবে। 

আলুর অপকারিতা

আলু একটি সাধারণ সবজি তবে এর বৈশিষ্ট্যগুলিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হয় । আলু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বে একটি প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। (আলু সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ভারত, পেরু, বলিবিয়াতে।) (আলু প্রথম জন্মে 7000 বছর আগে মধ্য আমেরিকান এবং দক্ষিণ আমেরিকার অঞ্চলে।) আলু হল প্রতিটি বাড়িতে পাওয়া সবচেয়ে সাধারণ এবং সাধারণ খাবারগুলির মধ্যে একটি। আলু সব শিশুর প্রথম প্রিয় সবজির একটি। (এর বৈজ্ঞানিক নাম – Solanum tuberosum

আলু শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর মধ্যে অনেক ধরনের ঔষধি গুণও পাওয়া যায়। আলু কীটনাশকে পরিপূর্ণ, আলুতে সবচেয়ে বেশি স্টার্চ থাকে। আলুকে কার্বোহাইড্রেটের ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলুতেও সঠিক পরিমাণে ক্যালোরি পাওয়া যায়, খুব কম প্রোটিনও পাওয়া যায় আলুতে,
100 গ্রাম আলুতে 1.6% প্রোটিন, 22.6% কার্বোহাইড্রেট, 0.1% ওজন, 0.4% খনিজ এবং 97% ক্যালোরি থাকে।

আলু কখনোই খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া উচিত নয় কারণ এর সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশ এর খোসার ঠিক নিচে থাকে যা প্রোটিন ও খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। আলুর খোসায় এর সজ্জার চেয়ে 7 গুণ বেশি ক্যালসিয়াম এবং 17 গুণ বেশি আয়রন থাকে। আলুর পুষ্টি এবং ফাইবার সামগ্রী 90% হ্রাস করে। 

আলু খুব হালকা এবং খুব সহজে হজম হয়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা এই আলু ব্যবহার করে তাদের হারানো শক্তি ফিরে পেতে পারেন, তবে এতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ পাওয়া যায় তাই অতিরিক্ত সেবন করলে ডায়রিয়ার সমস্যাও হতে পারে। কিডনিতে পাথর প্রধানত আলু আয়রন এবং ক্যালসিয়াম উভয়ই সমৃদ্ধ। রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়ায় যা কিডনি ও পাথরের জন্য ভালো বলে বিবেচিত না হলেও এতে নিসিয়াম পাওয়া যায় যা কিডনিতে ক্যালসিয়াম জমা রোধ করে এবং অন্যান্য উৎকোচ আলুর ক্যালকুলাসের জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত হয়।
 আবার আলুর ব্যবহার মানসিক চাপের কারণে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং ফাইবারের কারণে এটি বদহজমেরও চিকিৎসা করতে পারে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের আলু থেকে দূরে থাকতে হবে কারণ তাদের আলু খেলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। আলুতে উপস্থিত ফাইবার কোলেস্টেরল কমায় যার ফলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হয় যা রক্তচাপ কমাতে সহায়ক কারণ পটাসিয়াম অল্টোডিলেটর হিসেবে কাজ করে তাই এতে উপস্থিত পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

আলুর পুষ্টি উপাদান

 আলুতে প্রচুর পরিমাণে শর্করার পাশাপাশি ফাইবারও রয়েছে। এটি আমাদের হজমে সহায়তা করে, পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আলুতে ভিটামিন বি৬ থাকে, যেটা আমাদের মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। খাবার তালিকায় আমরা যদি কোনও বেলায় আলু রাখি তরকারির সাথে, তাহলে দেখা যাবে এটি আমাদের ভিটামিন বি৬-এর অভাব পূরণ করবে। আলুতে ভিটামিন বি৬-এর পাশাপাশি ওমেগা থ্রিও থাকে।

 আপনি যদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আলু রাখেন, তাহলে এটা ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ করতে সাহায্য করবে।আলুতে ভিটামিন সি রয়েছে, যেটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও এর একটা ভূমিকা রয়েছে। আলুতে ভিটামিন এ রয়েছে। ভিটামিন এ আমাদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
 শুরুতেই বলেছিলাম আলুতে ফাইবার রয়েছে, এই ফাইবারের আরেকটা বেনিফিট রয়েছে। সেটা হলো আপনি যদি কোনও কারণে ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করতে চান, তখন ভাতের বদলে আলু পরিমিত পর্যায়ে খেতে পারেন। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ যখন আপনার ব্যালেন্সে থাকবে, তখন ডায়াবেটিসও কন্ট্রোলে থাকবে।

আলু খেলে কি মোটা হয়

আলু খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে অনেক দ্বিধা কাজ করে। আলু মানে শর্করা, খেলেই বুঝি মোটা হয়ে যাব, এমন ধারণা পোষণ করেন অনেকেই।
অতিরিক্ত পরিমাণে আলু খেলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস সহ আরও বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে এক্ষেত্রে আলু কিভাবে খাচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝে মাঝে তরকারীর সাথে, মিক্সড সবজির সাথে বা সেদ্ধ আলু/ভর্তা খেলে তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। আলু যেহেতু ভাত/রুটির মত শর্করা জাতীয় খাবার, তাই দুটো একসাথে বেশি খাওয়া যাবেনা। যেমন যেদিন খাবারে আলুভর্তা থাকবে, সেদিন অবশ্যই ভাত এর পরিমান কম থাকতে হবে।

এবার চলুন আলুর কিছু গুনাগুন জেনে নেই :
১।আলুতে ভাতের চেয়ে কম ক্যালোরি
২।আলুতে বেশ ভাল পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে
৩।আলু ভিটামিন B6 এর একটি ভালো উৎস
৪।আলুতে কিছু পরিমান পটাশিয়াম ও আয়রন রয়েছে
তাই খাদ্যাভ্যাস থেকে আলু একেবারে বাদ না দিয়ে, মাঝে মাঝে, অল্প পরিমানে সেদ্ধ করে বা তরকারিতে দিয়ে আলু খেতেই পারেন।যাদের গ্লুটেন ইন্টলারেন্স অর্থাৎ রুটি খেতে পারেন না, তারা আলু দিয়ে রুটি বানিয়ে খেতে পারেন।

 শেষ কথা

আলু খাওয়া অনেক উপকারি।আলু খেলে শরিরের ওজন বাড়ে।আলু রুপচর্চাও সাহায্য করে। আলু অনেক উপকা্রি ।আমাদের আলু খাওয়া দরকার। এতে কনো ক্ষতি নেই।


Comments