পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার সম্পরকে বিস্তারিত জানুন

                        পা ফোলার কারণ ও প্রতিকার




  • পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায়
  • পা ফোলা কমানোর ব্যায়াম
  • কিসের অভাবে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়
  • পা ফোলা ও ব্যথার কারন
  • পা ফোলা থেকে মুক্তির উপায়

পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায় ঃ 

 একটি সাধারন সমস্যা হলো পা ফোলা। পা ফুলে যাওয়ার অনেক কারন রয়েছে এর মধ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, বয়স বৃদ্ধি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পা ও গোড়ালিতে আঘাত ইত্যাদি। পায়ে রক্ত ​​সঞ্চালন সঠিকভাবে না হওয়ার কারণেও এই সমস্যায় পড়তে হয়। 

পায়ের ফোলা কমাতে হালকা গরম জলে সন্ধব লবণ মিশিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য এটিতে আপনার পা ডুবিয়ে রাখুন। এই লবণে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। যখন এটি জলেতে দ্রবীভূত হয়, এটি ত্বকের মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রবেশ করে। এটি ব্যথা এবং ফোলা থেকে মুক্তি দেয়। এটি আপনার শরীরকে বিশ্রাম দেয়। এটি পা ফোলা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

পা ফোলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ম্যাসাজ একটি অন্যতম মাধ্যম । ম্যাসাজ করলে পা ফোলা বা পায়ের যন্ত্রনা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া যাই। 
পায়ের ফোলাভাব কমাতে একটু উঁচুতে পা রেখে বসলে অনেকটা আরামদায়ক লাগে । ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে পা এই রোগ নিরাময় করা সম্ভভ। 

পা ফোলা কমানোর ব্যায়াম ঃ 

ঘুমানোর সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমাতে হবে।  এরকম কিছু দিন পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমালে দেখবেন যে আপনার পা ফোলা অনেকটাই কমে গেছে। 

 দীর্ঘ সময় বসে থাকলে একটু হাটাহাটি করতে হবে ।  কারণ দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরের ও পায়ের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যে কারণে পা ফোলা সমস্যা দেখা দেয়। 

মাঝে মাঝে আসন দিয়ে অর্থাৎ এক পায়ের উপরে আরেক পা উঠিয়ে কমর মেরুদন্ড টানটান করে পাঁচ মিনিটের মত বসে থাকলেও পা ফোলা কমে যায়। 

কিসের অভাবে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়ঃ

ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের অভাবে সাধারনত এই সমস্যা দেখা দেই । শরিরের বিভিন্ন প্রান্তে তরল পদার্থ  জমে গেলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি ফুলে যেতে পারে। সাধারণত কিডনির সমস্যায় পায়ের গোড়ালি ও চোখের তলায় জমা হয় তরল।  আবার অনেক সময়ে কিডনির সমস্যায় সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে পা ফুলে যায়।সুতরাং পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে গেলে অবহেলা না করে পরামর্শ নিতে হবে চিকিৎসকের।

 পা ফোলা ও ব্যাথার কারন ঃ

 শরীরের নিম্নভাগ থেকে রক্ত ফেরত নেওয়ার কাজ করে যে শিরা, কোনো কারণে যদি এসব শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, তখন ধমনির মাধ্যমে রক্ত পায়ে আসছে কিন্তু ফেরত যেতে পারছে না, তাই পা ফুলে যায়। 

পা ফোলা আর কিছুই নয়, শরীরে পানি জমার একটি লক্ষণ। শরীরের সর্বনিম্ন অংশ হওয়ার কারণে পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে এর উপস্থিতি আগে বোঝা যায়। শরীরে পানি জমার পরিমাণ বাড়তে থাকলে পা ছাড়াও পেট বা মুখ দেখলে ফোলা মনে হতে পারে। 

পা অনেক কারনে ফুলে যেতে পারে যেমন ; কিডনি রোগ, যকৃতের রোগ , রক্তনালির অসুখ, হরমোনের সমস্যা। 

 পা ফোলা থেকে মুক্তির উপায়ঃ

পা ফোলা রোধে নিচের বিষয় গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন -

লবনঃ এক গামলা কুসুম গরম পানিতে আধা কাপ  লবণ গুলিয়ে তাতে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পা ফোলা কমবে, রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, অস্বস্তি কমবে দ্রুত। সপ্তাহে তিন দিন পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে হবে।

লবণ খাওয়া কমানো: লবণ বেশি খেলে শরীর পানি শোষণ করে বেশি, ফলে পা ফোলার সম্ভাবনা বাড়ে। এজন্য দূরে রাখতে হবে টিনজাত, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, সস, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি। 

ম্যাগনেসিয়ামের অভাব: শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে হাত-পা ফুলতে পারে। তাই সবুজ পত্রল শাকসবজি, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, মাছ, সয়াবিন,  কলা,  ইত্যাদি ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর খাবার খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিত রাখা উচিত।

মালিশ: নারিকেল তেল, টি ট্রি অয়েল, নিমের তেল, কাঠবাদামের তেল ইত্যাদি দিয়ে পা মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে পায়ের ভেতর বাড়তি তরল সরাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তেল কুসুম গরম করে পায়ের নিচ থেকে উপরের দিকে মালিশ করতে হবে। আদর্শ সময় হল প্রতিরাতে, গোসলের আগে।

Comments